আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ভোটের ঘোষণার আগেই রাজ্যে আসবে দেড়শ কোম্পানি সৈন্য !! 

এখনো পর্যন্ত লোকসভা ভোট ২০২৪ এর তারিখ ঘোষিত হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই ঘোষিত হতে চলেছে। তারিখ ঘোষণা না হলেও প্রচার পর্ব খুবই তোড়জোড় করে শুরু হয়েছে সব দলের পক্ষ থেকেই। কখনো দিদি কখনো বা দাদা সকলেই নেমেছেন মাঠে। তবে তারই মাঝে রাজ্যে ইতিমধ্যেই পৌঁছতে চলেছে সৈন্য দল।

দেড়শ কোম্পানি সৈন্য আসতে চলেছে

সূত্রের খবর আগামী ৭ই মার্চের মধ্যে প্রায় দেড়শ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী সৈন্য পৌঁছতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দফায় আসবে ১০০ কোম্পানি সৈন্য পরের দফায় আসবে আরো ৫০ কোম্পানি।

সন্দেশখালি আবহের কারণেই কি এতো সতর্কতা?

পশ্চিমবঙ্গের সম্প্রতি রাজনৈতিক আবহের কথা মাথায় রাখলে দেখা যাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালি কাণ্ডের জন্য আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখ এর বাড়িতে বছরের শুরুতেই ইডি দল হানা দেওয়ার পরেই শাহজাহান ভক্তরা হামলা চালায় ইডি ও CRPF বাহিনীর ওপর। তার পরেই ৫৫ দিন পলাতক থাকার পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ রাজ্য পুলিশের হাতে ধরা পরে শাহজাহান । তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা নেহাতই শেষ হতে চায় না। সুন্দরী মহিলাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে আবার বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পর্যন্ত ছিলো শাহজাহানের গুন্ডাদের বিরুদ্ধে। তারই সাথে সাধারণ মানুষের  জমি দখল করে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করতেন তিনি ও তার ভক্তরা। তার বিরুদ্ধে মহিলারা বিক্ষোভ করেন। যার জেরেই ১৪৪ ধারা অবধি জারি হয়েছিলো দীর্ঘদিন ধরে।

এতো কিছুর মধ্যেও শাহজাহান পলাতক থাকা কালীন তার দল থেকে বিশেষ কোনো রকম বার্তা পাওয়া যায়নি তার বিরুদ্ধে। তবে শেষ কিছুদিন আগে তৃণমূল নেতা এক সপ্তাহ সময় দেন শাহজাহান কে ধরা হবে। এবং তার এই বাণীর তিন দিনের মধ্যেই ধরা পরে  শাহজাহান। এর পরেই শাসক দল থেকে বাদ পরে ছয় বছরের জন্য।

অন্যদিকে বিরোধী দল গুলোর মতে ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে, ভোটারদের মনোবল বাড়াতেই নাকি রাজ্যে দ্রুত আনা হলো কেন্দ্রীয় বাহিনী। জেলা পুলিশ সুপারের অধীনে থাকবে এই বাহিনী। এবং সব জেলা গুলিকেই সমান ভাবে সতর্কতার মাইয়ে রাখতে চাইছে তাই এতো বেশি পরিমাণ বাহিনী আনা হলো।

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলছেন, “মানুষের মনে ভয় রয়েছে। ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে। সে কারণেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী চাই। কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে পঞ্চায়েত ভোটের মতো সব ভোট লুঠ হয়ে যাবে।”

পড়াশুনা বন্ধ হবে কি?

আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এবং মানুষের মনোবল বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী এই রাজ্যে আনলেও তাদের থাকার জন্য বরাদ্য স্কুল বাড়ি। ইতিমধ্যেই স্কুল গুলো বন্ধ ছিল মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য। তারপরেই যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার ব্যবস্থা করা হয় তার জন্য স্কুল বন্ধ থাকবে। প্রায় দুই মাস যাবত স্কুল বন্ধ থাকবে সাথেই বন্ধ থাকবে পড়াশুনা। এর ফলে রাজ্যের শিক্ষার পরিস্থিতি বেশ বেহাল হবে তা বলাই বাহুল্য।