দেশের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অপরাধে ইমরান খানের ১০ বছরের জেল, ভেঙে গেলো নির্বাচনে লড়ার “ব্যাট”!! 

পিটিআই নেতা এবং পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহ মাহমুদ কুরেশিকে সাইফার মামলায় অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বিশেষ আদালতের বিচারক আবদুল হাসনাত জুলকারনাইন এ মামলার শুনানি করে এ রায় দেন। ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী এবং সেখানে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিশেষ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ইমরান খানের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে যিনি তখনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার স্বপ্ন দেখছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ১০ বছরের কারাদণ্ডের পর তাদের দুজনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

যদিও ইমরান খান এখনও উচ্চ আদালতে এই সাজা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, তবে সেনাবাহিনীর সাথে চলমান উত্তেজনার কারণে তার স্বস্তি পাওয়ার আশা কম। শুনানির সময় বিচারক বলেন, ইমরান খানের আইনজীবীরা হাজির না হওয়ায় তাকে সরকারি আইনজীবী দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশি প্রশ্ন করেছিলেন যে তাঁর আইনজীবী উপস্থিত না থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করতে পারেন। কারাগারেই এই শুনানি হয়। নির্বাচনের ঠিক আগে ইমরান খানের নির্বাচনী প্রতীক ব্যাটও কেড়ে নেওয়া হয় তার দল থেকে।

উত্তেজনা বাড়ছে করাচিতে

আপনাদের জানিয়ে রাখি, পাকিস্তানে ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে পাকিস্তান  দেশের বৃহত্তম শহর করাচিতে উত্তেজনা বাড়ছে। জাতীয় ও প্রাদেশিক বিধানসভা নির্বাচনে একে অপরকে পরাজিত করার চেষ্টাকারী দলগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার নাজিমানদে সহিংস সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কর্মীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে একজন মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম পাকিস্তান) কর্মী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।

একদিন আগে রবিবার, ক্লিফটন এলাকায় কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের নির্বাচনী সমাবেশে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং জোরপূর্বক কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশে, বিশেষ করে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কেন্দ্র করাচিতে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত এবং সব দল একে অপরের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। করাচিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।