ঠিক এই তিন কারণে হলোনা ভারতের তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নপূরণ !!

১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। টেবিল টপার  ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভারত তার তৃতীয় বিশ্বকাপ খেতাব অর্জন করতে অক্ষম থেকে যায়। আর অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তার ষষ্ঠ খেতাব অর্জন করে নেয়। এই বিশ্বকাপে ভারত পরপর দশটি ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছিল। সকলের আশা ভরসা এমনকি বিশ্বাস অবধি ছিলো যে এবারের খেতাব ভারতই জয় করবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। বেশ কিছু কারণবশত ভারত অষ্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনাল ম্যাচে হেরে গেলো। আসুন এই প্রতিবেদনে আমরা সেই সকল কারণ গুলি তুলে ধরার চেষ্টা করি।

১. অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস

অনেকেই মনে করছেন ভারতের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তাদের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফাইনাল ম্যাচে। আসলে পরপর দশটি ম্যাচ জিতে ভারতীয় টিম হয়তো কোথাও না কোথাও তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশিই বাড়িয়ে ফেলেছিল। অস্ট্রেলিয়ার মত পাঁচবার বিশ্বকাপ বিজয়ী টিমকে তারা বিশ্বকাপ শুরুতেই হারিয়ে ছিলো একবার। তাই হয়তো এই ম্যাচে তারা খুব বেশি প্রাধান্য দেয়নি অস্ট্রেলীয় টিমকে। আর সেই কারণেই হয়তো তারা এটাও বুঝতে পারেনি যে অস্ট্রেলীয় টিম ঠিক কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তার মাশুল নিজেদের হারের মধ্যে দিয়ে গুনতে হলো টিম ভারতকে।

২. অশ্বিন কে না খেলানো এবং সূর্য কুমারকে বারংবার সুযোগ দেওয়া

রবিচন্দ্রন অশ্বিন টিম ইন্ডিয়ার অত্যন্ত গুরত্বপূর্ন একজন সদস্য যাকে স্পিন বোলিং এর রাজাও বলা যেতে পারে। এছাড়া টিমের প্রয়োজনে তিনি যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং করেছেন ও টিমকে জয় লাভ করিয়েছেন। তিনি ওয়ার্ল্ড কাপ স্কোয়াডে তো মজুদ ছিলেন তবে প্লেয়িং ইলেভেনে একদমই সুযোগ পাননি। তার এই শেষ বিশ্বকাপে এক বারের জন্যও সুযোগ না পাওয়া, বিশেষত ফাইনাল ম্যাচে যেখানে স্পিন বোলিং এর অত্যন্ত গুরুত্ব ছিলো সেখানেও তাকে সুযোগ না দেওয়া টিমের জন্য খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি।

আবার অন্যদিকে এই বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার সব ব্যাটার দের মধ্যে যদি কেউ ব্যাট হতে একেবারেই তেমন কিছু প্রদর্শন না করে থাকতে পারেন তবে তিনি সূর্য কুমার যাদব। এবারের বিশ্বকাপ তার জন্য একেবারেই মন্দা গেছে। তিনি টি টোয়েন্টি নাম্বার এক ব্যাটসম্যান। তার হাতে রানের বর্ষা যে কিছুটা ওডিআইতেও দেখা যাবে তেমনটা আশা রাখা খুব কিছু ভুল নয়। তবে সূর্যকুমার সকলের সেই আশায় উজ্জ্বল ভাবে জ্বলে ওঠার বদলে নিভে গেছেন। ফাইনাল ম্যাচেও যখন অন্য সবাই আউট হয় তখন আশা করা হয়েছিল সূর্য অন্তত একটি সম্মান সূচক স্কোরে টিমকে পৌঁছে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি ২৮ বল খরচ করে মাত্র ১৮ রান করতে সক্ষম হন। যা খুবই নিরাশাজনক।

৩. টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং পাওয়া

এই ম্যাচের ক্ষেত্রে সব শেষে এটাই বলা জয় টস যার ম্যাচ তার। টস জিতে এদিন প্যাট কামিন্স ইন্ডিয়া কে ব্যাট করতে পাঠায় প্রথমে। আশা ছিলো টিম ইন্ডিয়া সেমিফাইনালের মতোই পাহাড় প্রমাণ স্কোর খাড়া করবে যা তৈরি করা অষ্ট্রেলিয়ার জন্য নামুমকিন হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু হলো একেবারেই উল্টো। মাত্র ২৪০ রানে অল আউট হয় ইন্ডিয়া।

তবে এবারে আশা ছিলো ফুল ফর্মে থাকা ভারতীয় বোলারের হয়তো নিজেদের জলসা প্রদর্শন করবেন। রাতের দিকে শিশির পরায় ঘাস প্রায় ভিজে থাকছিল। যার জন্য পেস বোলারদের বেশ অসুবিধের সম্মুখীন হতে হয়। তবে স্পিন বোলাররাও একেবারেই হতাশ করেন। যে চারটি উইকেট সেদিন ভারতীয় বোলাররা নিয়েছিল তা ফাস্ট বোলারের খাতা তেই যুক্ত হবে। রবি অশ্বিন এর মতন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সহ অনেকেই এদিনের ম্যাচের কুয়াশা নিয়ে চিন্তিত ছিলো। আর ফল স্বরূপ তাই হলো টিম ইন্ডিয়া নিজেদের তৃতীয় খেতাব অর্জনে ব্যর্থ হয়ে দাঁড়ালো ।