পুজোর দিন গুলো কাটুক জমিয়ে ভুরিভোজ, রইলো সহজ কিছু রেসিপির হদিশ !!

Enjoy Puja Days with Simple Recipes

পুজো এখন দোর গোড়ায় এসে উপস্থিত। ঠাকুর দেখা, ঘুরতে বেরোনো আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। অনেকেই রেস্টুরেন্ট -এ খেতে পছন্দ করেন আবার অনেকেই কিন্তু বাড়িতে নিজে রান্না করে খেতে ভালোবাসেন। সারা বছর কাজের চক্করে হয়তো রান্নার সুযোগ পেয়ে ওঠেন না। পুজোর কদিন একটু নিজের আর পরিবারের স্বাদ মত রান্না করার সুযোগ পেলে হাত ছাড়া করেন না। তাদের জন্যই রইলো কিছু সহজ মাছ, মাংস, ডিম রেসিপি। যা বানাতে লাগবে কম সময় কিন্তু স্বাদের সাথে হবে না কোনো রকম কম্প্রোমাইজ।

১) দই ইলিশ

দুর্গাপুজোয় দিনগুলোয় জমিয়ে ইলিশ মাছ খাবেন না, তা আবার হয় নাকি! বাড়িতে অতিথিদের দই ইলিশ খাইয়ে চমকে দিতে পারেন। তৈরি করাও সহজ আর খেতেও সুস্বাদু।

উপকরণ: ইলিশ মাছ 4 পিসলু, হলুদ গুঁড়ো 3 চা চামচ,কালো সরষে বাটা 2 টেবিল চামচ,সাদা সরষে বাটা 2 টেবিল চামচ, টক দই ½ কাপ, কাচাঁ লঙ্কা বাটা 2টি এবং গোটা 6টি, লবণ পরিমাণ মতো, চিনি 1 চা চামচ, সরষের তেল ½ কাপ

পদ্ধতি: প্রথমে, মাছগুলিকে ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি পাত্রে টক দই, হলুদ, সরষে-পোস্ত বাটা, লঙ্কা গুঁড়ো, সরষের তেল, নুন, ও সামান্য চিনি একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে তাতে মাছগুলিকে একে একে দিয়ে ম্যারিনেট করে ১০-১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে।

১০-১৫ মিনিট পর, একটি ফ্রায়িং প্যান নিয়ে তা গরম করতে হবে এবং প্যান গরম হলে তাতে ম্যারিনেট করে রাখা ওই মাছগুলিকে একে একে দিয়ে দিতে হবে।

পাত্রে অবশিষ্ট পড়ে থাকা মিশ্রনটিকেও ফ্রায়িং প্যানে দিয়ে দিতে হবে এবং পাত্রটিতে ১ কাপ জল দিয়ে তা দিয়ে পাত্রটিকে ভাল করে ধুয়ে সেই জলটিও ফ্রায়িং প্যানে দিয়ে দিতে হবে। এরপর, কেটে রাখা টম্যাটো ও কাঁচা লঙ্কা তাতে দিয়ে দিতে হবে এবং আঁচ ফুল করে ফুটতে দিতে হবে।

কিছুক্ষণ পর ঝোলে যখন ফুট এসে যাবে, তখন আঁচ কমিয়ে ফ্রায়িং প্যানে ঢাকা দিয়ে ঝোলকে ১০-১৫ মিনিটের জন্য ফুটতে দিতে হবে যাতে মাছগুলি সিদ্ধ হয়ে যায়।

১০-১৫ মিনিট পর ঢাকা খুলে মাছগুলিকে একবার হালকা করে নেড়ে নিতে হবে এবং ঢাকা খুলে রেখে অতিরিক্ত ঝোলটি গাঢ় হতে দিতে হবে।

ঝোল ফুটে গাঢ় হয়ে গেলে, তা নামিয়ে নিতে হবে। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল দই ইলিশ।

গরম গরম ভাতের সাথে এটি পরিবেশন করলে, দেখবেন সবাই খুব আনন্দ করে খাচ্ছে।

২) মুরগির মাংসের লাল ঝোল

বাঙালিদের মহা উৎসব দুর্গাপুজোয় একেবারে বাঙালি খাবার মুরগির মাংসের ঝোল। তৈরি করাও সহজ আর খেতেও সুস্বাদু। বাসন্তী পোলাও কিংবা জিরা রাইস দিয়ে জমজমাট।

উপকরণ: চিকেন- ১ কেজি, টক দই- ১৫০ গ্রাম, সম পরিমাণে আদা-রসুন একসঙ্গে বাটা- ২ চামচ, মাঝারি আকারের পেঁয়াজ- ৪টি খুব মিহি করে কাটা, মাঝারি আকারের আলু- ৩টি ডুমো করে কাটা, গোটা গরম মশলা- ৩টি ছোট এলাচ, ২ টুকরো দারচিনি, তেল- ১০০-১৫০ এমএল, গুঁড়ো মশলা- ১ চামচ জিরে, ১ চামচ ধনে, ৩ চামচ হলুদ, ২-৩ চামচ কাশ্মিরী লঙ্কা গুঁড়ো, ১ চামচ ঝাল লঙ্কা গুঁড়ো, ১/২ চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, ১/২ চামচ চিনি, স্বাদ মতো নুন।

প্রথমে দইটা ভাল করে ফেটিয়ে নিন। এবার সেটা চিকেনে দিয়ে ভাল করে ম্যাসাজ করুন। এভাবে সারারাত রাখতে পারলে খুব ভাল। নয় তো অন্তত ১ঘণ্টা ম্যারিনেট করার চেষ্টা করুন।

এর পর আলুতে নুন ও হলুদ মাখিয়ে নিন। প্রেসার কুকার বা কড়ায় তেল গরম করুন। আলু বেশ লাল করে ভেজে তুলে নিন।

এবার সেই তেলেই গোটা গরম মশলা দিন। তেলের মধ্যেই ১/২ চামচ চিনি দিন। চিনি যেন পুড়ে না যায়। তাই এরপরেই পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন। পেঁয়াজ যেন খুব মিহি কুঁচনো হয়। পেঁয়াজটা হালকা বাদামি করে ভাজুন।পেঁয়াজে রঙ এসে গেলে আদা-রসুন বাটা দিন। পুরোটা এক-দেড় মিনিট ভাজুন।

এরপর স্টোভের আঁচ কমিয়ে দিন। গুঁড়ো মশলাগুলো দিয়ে দিন। বেশি আঁচ থাকলে মশলা জ্বলে যাবে। মশলাগুলো পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটার সঙ্গে ভাজুন। এর ফলে মশলার কাঁচা গন্ধটা চলে যাবে। মশলার এক গাঢ় নিজস্ব গন্ধ আসবে।

তাছাড়া এই গুঁড়ো মশলার মধ্যেই লক্ষ্য করুন, বেশ খানিকটা হলুদের কথা বলা হয়েছে। এই হলুদ বেশি হলে তা সুন্দর রঙ আনতে সাহায্য করবে। তবে চিন্তা করবেন না, তেলে ভাল করে কষিয়ে নিলে হলুদের কাঁচা গন্ধের কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই সঙ্গে কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়োটাও এই রঙ আনবে। দুইটিই ১ মিনিট কষানো গুরুত্বপূর্ণ।

মশলা ১ মিনিট কষিয়েই এবার অল্প জল দিন। কড়া বা প্রেশার কুকারের তলায় লেগে যাওয়া মশলাটা খুন্তি দিয়ে ছাড়িয়ে নিন। পুরো ব্যাপারটা কষান। দেখবেন তেল ছাড়তে শুরু করেছে।

এবার ম্যারিনেট করে রাখা চিকেন দিন। স্বাদ মতো নুন ও গোলমরিচ দিন। কষাতে শুরু করুন। নুনের দেওয়ার পর চিকেন থেকে তার জল ছাড়তে শুরু করবে। হাই ফ্লেমে কষাতে থাকুন।

এভাবে ৮-১০ মিনিট কষালেই চিকেনের গায়ে হালকা রঙ এসে যাবে। তেল ছাড়তে শুরু করবে মশলা থেকে। এবার ভেজে রাখা আলুটা দিয়ে দিন।

জলের পরিমাণটা এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১ কিলো চিকেন থেকেই অনেকটা জল বের হবে। যে কটা সার্ভিং হবে, সেই অনুযায়ী জল মাপুন।

প্রেসার কুকারে করলে জল বাস্প হয়ে কম বের হবে। তাই চিন্তা নেই। চিকেন আর আলু মোটামুটি ঝোলে ঢাকলেই যথেষ্ট। আর কড়ার ক্ষেত্রে প্রথমে অল্পই জল দিন। পরে শুকিয়ে আসছে মনে হলে জল দিতে পারেন।

এবার প্রেশার কুকার হাই ফ্লেমে দিয়ে ১টি সিটি দিন। সিটি হওয়ার পর ১০-১৫ মিনিট ওভাবেই রেখে, তারপর ঢাকনা খুলুন।

কড়াতে রান্না করলে, হালকা আঁচে চিকেন ও আলু সেদ্ধ হওয়ার অপেক্ষা করুন। পারলে ঢাকা দিয়ে রাখুন।

চিকেন সেদ্ধ হয়ে উপরে তেল ভেসে উঠবে। দেখলে মনে হবে অনেক বেশি তেল দেওয়া। কিন্তু আসলে, চিকেনের ফ্যাট, টক দইয়ে থাকা ফ্যাট গলে উপরে চলে আসে। প্রেসার কুকারে এই ব্যাপারটা আরও ভাল হয়।

৩)ডিম পোস্ত

ডিম সেদ্ধ করে পোস্ত বাটা দিয়ে তৈরি এই সুস্বাদু খাবার বাঙালি ঘরে খুবই জনপ্রিয়।

উপকরণ: চারটে সেদ্ধ ডিম, একটা বড় পেঁয়াজ কুচি, একটা টমেটো কুচি , আধা চা চামচ আদা বাটা , পরিমাণমতো হলুদ গুঁড়ো,  এক চামচ কাঁচা লঙ্কা বাটা,  দুই টেবিল চামচ পোস্ত বাটা, স্বাদ অনুযায়ী নুন, পরিমাণমতো সর্ষে তেল,  দু’টো শুকনো লঙ্কা দু’টো তেজপাতা সামান্য ধনে পাতা কুচি।

পদ্ধতি: গ্যাসে কড়াই বসিয়ে কিছুটা তেল দিন। তাতে হলুদ মাখানো ডিমগুলো হালকা ভেজে তুলে নিন। ২) এবার শুকনো লঙ্কা আর তেজপাতা দিয়ে সামান্য ভেজে পেঁয়াজ ও টমেটো কুচি দিয়ে ভেজে নিন ভালভাবে। তারপর আদা বাটা, কাঁচা লঙ্কা বাটা, হলুদ গুঁড়ো দিয়ে মেশান ভাল করে। ৩) পরিমাণমতো জল, নুন ও পোস্ত বাটা দিয়ে মিশিয়ে নিন। আঁচ কমিয়ে ১০ মিনিট রান্না হতে দিন। ৪) এরপর ভাজা ডিমগুলো দিয়ে ওপর থেকে কাঁচা সর্ষে তেল ছড়িয়ে মিশিয়ে দিন। আরও পাঁচ মিনিট হতে দিন। আঁচ কমিয়েই রাখবেন। ৫) পাঁচ মিনিট পর ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।