“এবারে দ্বায়িত্ব আরও বাড়বে”, টিম ইন্ডিয়াকে সোনা জিতিয়ে খুশী তিতাস সাধু, করলেন এই খোলাসা !!

এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের জয় জয়কার। হরমন সেনা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। দেশের জন্য তারা সোনা জয় করেছে। আর সেনার একজন দক্ষ সৈনিক আর কেউ নন বরং বাংলার চুঁচুড়ার মেয়ে তিতাস সাধু। তিনি হলেন দেশের মহিলা ক্রিকেট টিমের একজন দুর্দান্ত তুখোড় ফাস্ট বোলার। এশিয়ান গেমসে তিতাসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজির তৈরি করেছে। তবে এখনই কিন্তু আনন্দে আত্মহারা হয়ে দিন কাটাচ্ছেন না তিতাস, বরং তিনি মনোনিবেশ করেছেন আরোও কঠিন পরিশ্রমের দিকে। এমনটাই জানাচ্ছেন তিতাসের বাবা৷ এটাই মত তিতাসের নিজেরও। তাই বাড়ি ফিরেই ট্রেডমিলে দৌড়ে শরীর চর্চার উপর মনোনিবেশ করছে তিতাস।


বাড়ি পৌঁছে তিতাস বলেন, ‘‘আমার উপর কোনও চাপ ছিল না। আমাকে যতটা করতে বলা হয়েছিল সেটাই করেছি। আর তাতেই সাফল্য পেয়েছি।সামনেই ঘরোয়া ক্রিকেট আছে সেদিকে এবার ফোকাস করব। আগামী দিনে জাতীয় দলে টানা খেলে যাওয়া আমার লক্ষ্য।এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পেরেছি এতেই আমি খুশি। ভালর কোনো শেষ নেই। তবে চাইব যেন আরও ভাল করতে পারি।’’

ভারতের জয়ে তিতাসের বড়ো ভূমিকা
তিতাসের আগুনসম স্পেলে ভেঙে পরে শ্রীলঙ্কা। 18 বছর বয়সী ফাস্ট বোলার তিতাস সাধু ভারতের স্বর্ণপদক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মেডেল বোলিং করতে গিয়ে নিজের প্রথম ওভারেই দুই উইকেট নেন তিনি। তিনি শ্রীলঙ্কার শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যান আনুশকা সঞ্জীবনী এবং বিশমি গুনারত্নেকে আউট করেন। এর পরে, সাধু শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক এবং মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান চামারি আতাপাত্তুকেও বরখাস্ত করেন। তার প্রথম স্পেলে তিতাস ৩ ওভার বল করে মাত্র ২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।

তবে কে এই তিতাস সাধু আসুন জেনে নিন আপনিও
তিতাস সাধুর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চুঁচুড়া তে। সাফল্যের পথে তিতাসের যাত্রা সহজ ছিল না। পাঁচ বছর আগে কেউ ভাবেনি যে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য হবেন। তিতাস, যিনি তার 10 তম বোর্ড পরীক্ষায় 93% নম্বর পেয়েছিলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি দৌড়াতে ভালো বাসতেন।
তার বাবা রণদীপ সাধু একজন প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ এবং এখন হুগলিতে একটি ক্রিকেট একাডেমি চালান। ক্রিকেটের সঙ্গে তার সখ্যতার গল্পও মজার। তিনি তার ক্লাব রাজেন্দ্র স্মৃতি সংঘের জন্য স্কোর লিখতেন। একদিন ক্লাবে নেট বোলারের অভাব ছিল। এমন অবস্থায় তিতাসকে ডাকা হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পড়ালেখাও ছেড়ে দিয়েছিলেন ক্রিকেটের জন্য।

অনূর্ধ্ব-১৯ এর ফাইনালে বিস্ময় দেখান 
13 বছর বয়সে, তিনি রাষ্ট্রীয় বিচারে অংশগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু নির্বাচিত হননি। তবে এই ধাক্কা তিতাসকে নিরুৎসাহিত করতে পারেনি। তিনি আরও কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন এবং তার দক্ষতার উন্নতি করার পরে, তিনি মাত্র 16 বছর বয়সে সিনিয়র বেঙ্গল দলে জায়গা করে নেন। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তিতাসকে। তিনি অনূর্ধ্ব-19 মহিলা বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলেরও অংশ ছিলেন। সেখানে ফাইনালে তিতের ৪ ওভারে ৬ রানে ২ উইকেট।