বিয়েবাড়ির পরিণত হলো শব বাড়িতে, ইরাকে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেলো ১১০ জনের, আহত শতাধিক মানুষ। 

আনন্দ অনুষ্ঠান যে কখন মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে পরিণতি পায় তা কেই বা জানতে পারে? খাওয়া দাওয়া, আনন্দ অনুষ্ঠান নিমেষে পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে । ওই দেশের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ইরাকের নিনেভে প্রদেশের হামদানিয়া এলাকায় একটি বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান ছিলো, আর বুধবার কাকভোরে ওই বিয়েবাড়িতেই আতশবাজির কারণে প্রাণ হারালেন অন্তত 114 জন। আহত হলেন প্রায় 150 জন।

প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিয়েবাড়িতে ব্যবহৃত আতসবাজি থেকেই আগুন ধরে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডে অভিযোগ উঠেছে, ইরাকের অধিকাংশ নির্মাণে নিয়ম লঙ্ঘন করে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়। ফলে অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটে থাকে। হামদানিয়াহ শহরে বুধবারের অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে বিয়েবাড়ির সজ্জার জন্যও। অভিযোগ, আইন ভেঙে তীব্র দাহ্য বস্তু দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়েবাড়ির বাইরের দেওয়াল। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন সব গ্রাস করে।

স্থানীয় লোকজন এবং প্রত্যক্ষদর্শী দের কাছ থেকে জানা গেছে ওই বিয়েবাড়িতে নাকি প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত ছিলো। যার থেকেই এই সাংঘাতিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিয়েবাড়ির ছাদের একাংশ পুরেও গেছে।

বিয়েবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল সুদানি। ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক বলে এক টুইট বার্তায় জানান। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে দিয়েছেন তদন্তের নির্দেশ। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। দুর্ঘটনার পর তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের শুশ্রূষার জন্য পৌঁছন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতারা। বুধবার ভোরে বিয়েবাড়ি থেকে আগুনের শিখা বেরতে দেখা যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল জুড়ে ছড়িয়ে আছে অগ্নিদগ্ধ ধ্বংসাবশেষ।