“আমাদের সকলকে একজোট হতে হবে”, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নতুন মন্ত্র দিলেন TMC মন্ত্রী কুণাল ঘোষ

নিজের অনন্য মন্তব্যের জন্য সর্বদাই চর্চায় থাকেন কুণাল ঘোষ। এই বারেও তার অন্যথা হলো না। ডেঙ্গু পরিস্থিতি রাজ্যে দৈনন্দিন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূল এর মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এর ভাইরাল হওয়া মন্তব্য আরো বেশি চিন্তায় ফেলছে। তিনি যে একেবারে জনসাধারণ কেই দায়ী করছেন এই পরিস্থিতির জন্য। তারা নাকি তাদের নৈতিক কর্তব্য পালন করছে না।

আবার অন্যদিক রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে বিরোধী শিবিরে। ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য রাজ্য সরকার যথেষ্ট প্রস্তুত ছিল না বলে দাবি করছেন তাঁরা। আবার অন্যদিক নানান বিষয়ে মিডিয়ার সামনে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কুণাল ঘাওহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে করে বসলেন বেফাঁস মন্তব্য।

ঠিক কি বলছেন কুণাল

এদিন এ বিষয়ে কুণাল ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘দেখুন, মশার জন্ম নিয়ন্ত্রণ, এটা একটা খুব জটিল এবং কঠিন বিষয়৷ এখন, মশা অতি অবুঝ প্রাণী৷ মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণে যত সহজে প্রচার করা যায়, মশার মধ্যে তত সহজে প্রচার করা যায় না৷’’

এরপরেই কুণাল দাবি করেন, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, রাজ্য সরকার, পুরসভা, স্বাস্থ্য দফতর, যা যা করার সবই করছে৷ পাশাপাশি, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের নৈতিক কর্তব্যের কথাও তুলে ধরেন কুণাল৷

ডেঙ্গু কমাতে কি করতে হবে জনসাধারণ কে তাও জানান কুণাল!

যেহেতু ডেঙ্গুর মশা নিয়ন্ত্রণ শুধুই সরকারের নয় বরং সাধারণ মানুষেরও নৈতিক কর্তব্য, তাই কুণাল বলেন ‘‘বাড়িতে বাগানে, ছাদে জল জমিয়ে রাখবেন না৷ জমা জলে যেন মশা জন্ম না নেয়৷ সরকারের পক্ষে সব ছাদ, বারান্দা, বাড়ি দেখা সম্ভব নয়৷ হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা উচিত৷ অনেকে অন্য রাজ্য, এমনকি বাংলাদেশ থেকেও বহু ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে এখানকার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তার প্রভাব পড়ছে এরাজ্যের ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যায়৷ রাজ্য এবং স্বাস্থ্য দফতর ডেঙ্গি প্রতিরোধে যা করা উচিত সরকার তাই করছে।’’

তার কথবার্তায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা ঢাকার চেষ্টা, এবং সাথেই ডেঙ্গু ছড়ানোর ইঙ্গিত কিছুটা সাধারণ জনগণের দিকেই দেওয়া হলো বলে মনে হলো। সূত্রের খবর, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় এই মুহূর্তে প্রায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত। করোনা মহামারীর পর আবার এই ডেঙ্গু পরিস্থিতি রাজ্যবাসী কে একেবারে নাজেহাল করে তুলেছে। কবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে তা প্রশাসন বা জনসাধারণ কারোরই জানা নেই।